Introduction to Experiential Learning
সুশিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড ।একটা জাতীকে উন্নতির
শিখরে নিতে হলে সেই দেশকে সু শিক্ষিত হতে হবে আর সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হতে হবে। ইংরেজি যোগাযোগের একমাত্র ভাষা যাকে আমরা আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে জানি। তাই ইংরেজি বাংলাদেশের মানুষের জন্য শেখা অতীব জরুরী। শিখন-শিক্ষণ বর্তমান শিক্ষাক্রমে ইংরেজিকে প্রধানত একটি কার্যকর যোগাযোগের ভাষা হিসেবে দেখানো হয়েছে কার্যক্রমগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন কোনো শিক্ষার্থী নাস্তবিক বিভিন্ন পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ইংরেজি ভাষার নান্দনিকতাকে অনুধাবন করতে পারে এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশে মত প্রকাশের আচরণিক সক্ষমতা অর্জন করে। যোগ্যতাকে এই শিক্ষাক্রমে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধের নিরিখে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব আবশ্যিক শর্তসমূহ পূরণের জন্য পড়ানোর প্রক্রিয়া হিসেবে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা (Experiential Learning) পদ্ধতি কী?
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু
অভিজ্ঞতাভিত্তিক হলো একটি নমনীয় শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতি যা শিক্ষকদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী হতে সাহায্য করে। করার মাধ্যমে শিখে এবং তাদের কর্মে সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখায়। শিক্ষা পদ্ধতিতে শ্রেণিকক্ষ হলো একটি ল্যাবরেটরির মতো যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে হাতেকলমে জ্ঞানার্জন করে। প্রদত্ত কিছু নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন কিছু তৈরি করে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে, যাচাই বা পরীক্ষা করে, কৌতূহলী হয়ে উঠে এবং সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করার মাধ্যমে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে থাকে। এতে করে তারা দায়িত্ব গ্রহণ করতে শিখে যাবে, সৃজনশীল হয় এবং বিভিন্ন যোগ্যতা অর্জনের প্রতিফলন তাদের কর্মে দেখাতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা শিখতে এবং ফলাফলের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল
করে তুলতে হয় অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির ধাপসমূহ:
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি বা Experiential Learning-এর চারটি ধাপ রয়েছে:
১। প্রেক্ষাপটনির্ভর অভিজ্ঞতা (Concrete Experience)
২। প্রতিফলনমূলক পর্যবেক্ষণ (Reflective Observation)
৩। বিমূর্ত ধারণায়ন (Abstract Conceptualization)
৪। সক্রিয় পরীক্ষণ (Active Experimentation)
এ ধাপগুলোর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে সহযোগিতামূলক এবং প্রতিফলনমূলক শিক্ষার অভিজ্ঞতা প্রদান করা হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
তাদের নতুন নতুন দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা হলো অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার প্রধান
বৈশিষ্ট্য। অভিজ্ঞতার প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করার সময় শিক্ষার্থীরা যা যা শিখে থাকে তা তারা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ
করে থাকে।
Experiential Learning Cycle
১। প্রেক্ষাপটনির্ভর অভিজ্ঞতা (Concrete Experience)
এটা একজন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক স্তর । একজন শিক্ষার্থীকে যাচাই করা হবে তার পূর্বলব্ধ জ্ঞান বা সে কত টুকু বোঝে নিজে নিজে যে কোন বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া। এই ধাপে শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন প্রশ্ন, উদ্দীপক, ছবি বা প্রেক্ষাপট (context) উপস্থাপন করে তাদের সেইসব পূর্ব অভিজ্ঞতাসমূহ বের করে আনতে হয় (elicitation)। এগুলোর মাধ্যমে তাদের পূর্বলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং একটি নির্দিষ্ট শিখনযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মনোভাব/দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদেরকে একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করা।এই স্বাপেক্ষা অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখায়
২। প্রতিফলনমূলক পর্যবেক্ষণ (Reflective Observation)
এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী তার চিন্তার বিকাশ ঘটাতে পারবে। তার পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রতিফল ঘটবে। সে কি বুঝল বা তার জ্ঞানের পরিধিকে সে এখন কাজে রুপ দেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিফলন অনুশীলন এক প্রকার চিন্তন প্রক্রিয়া। এটি এক ধরনের মূল্যায়ন কৌশল যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজেই নিজের কোন কাজের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং পরবর্তীতে চিহ্নিত ত্রুটিসমূহ সংশোধনের মাধ্যমে নিজেকে সে কাজের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারে। শিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিফলনমূলক অনুশীলন শিক্ষকের শিক্ষণ অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া।, যার মাধ্যমে শিক্ষক তার শিক্ষণের মান উন্নয়ন করতে পারেন। এতে মূল্যবোধ তৈরি হবে , শিক্ষার্থীরা একে অপরের পাতা এবং পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি শেয়ার করে। তাদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ প্রতিক্রিয়া, সৃষ্ট অনুভূতি ইত্যাদি সম্পর্কে তার অন্যকে বলে। তারা তাদের নতুন কাজে অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখায় এবং সেটিকে অতীতের অভিজ্ঞতার সাথে তুলনা করে। কোনো কিছু ভবিষ্যতে তা করা যায় না, তা নিয়ে চিন্তা কে
৩।বিমূর্ত ধারণায়ন (Abstract Conceptualization)
এই ধাপে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পূর্বে অর্জিত জ্ঞান ও কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে যে তাত্ত্বিক দিকগুলো রয়েছে সেগুলোর সংযোগ স্থাপন করতে পারে সেদিকে মনোযোগ প্রদান করা হয়। বিভিন্ন টাস্ক’ ও ‘অ্যাকটিভিটি’ এক্ষেত্রে খুবই পূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং অভিজ্ঞতার প্রচলনের ভিত্তিতে নতুন ধারণার সৃষ্টি করে। তারা তাদের সার্বিক বিকাশের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হতে পারে, তা নিয়ে আগে থেকেই চিন্তা করতে পারে আর এটি তাদের নতুন ধারণা তৈরি করতে বা বিদ্যমান বিমূর্ত ধারণাগুলোকে সংশোধন করতে সহায়তা করে থাকে, যা থেকে তারা পরবর্তীপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রমণ করতে শিখে।
৪। সক্রিয় পরীক্ষণ (Active Experimentation)
এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ লাভ করবে। সে তার আগের তিনটি ধাপ অতিক্রম করে নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে যা শিখেছে তা পরবর্তী সময়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ তারা যা শিখেছে তা প্রয়োগ করে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারবে। এভাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ
ইশা প্রাথমিক অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করে দেখে যে তা ফলপ্রসূ কিনা এবং দ্বিতীয়বার নতুন অভিব্যতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো পরিবর্তন আছে কিনা তা যাচাই করে। এটি মূলত নতুন ধারণাটি পরীক্ষা করার একটি সুযোগ।
এই সক্রিয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীদের একটি নতুন প্রেক্ষাপটনির্ভর অভিজ্ঞতা হয় এবং চক্রটি আবার শুরু হয়। যতক্ষণ না শিক্ষার্থীরা যোগগতাটি অর্জন করে ততক্ষণ চক্রটি চলতে থাকে। এই চক্রটি শিক্ষার্থীদের প্রতিবার তাদের অর্জিত জ্ঞানকে পরীক্ষা করার সুযোগ করে নিয়ে থাকে
Example of Experiential Learning
যদি শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ও বয়স বুঝে কথা বলার যোগ্যতায় যোগ্য করে তুলতে হয়, সেক্ষেত্রে কীভাবে Experiential Learning-এর ধাপগুলো অনুসরণ করে তাকে যোগ্য করে তোলা যায়, তা নিয়ে বর্ণনা করা হলো। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রকমের ছবি দেখিয়ে বা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে, যেমন তাদের বাড়িতে কে কে আছে; ছুটির দিনে তারা কোথায় বেড়াতে যায়; পরিবারের লোকজনের সাথে এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে তারা একই ভাবে কথা বলে থাকে কিনা; তাদেরপরিচিত বা অপরিচিত সবার সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতা কতটুকু ভিন্ন; অপরিচিত কারও সাথে কেমন ভাষায় কথা বলতে হয় ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সম্পর্কের যা বয়সের লোকজনের মধ্যকার কথোপকথন দেখানো যেতে পারে। তারা এসব dialogue-এর ভাষা, শব্দ চয়ন এবং অভিব্যক্তির পার্থক্যগুলো লক্ষ করবে। তাদের বিভিন্ন formal ও informal expressions এর অর্থ জিজ্ঞেস করা হতে পারে, এসব expressions কোথায় বা কাদের ক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করবে সেটা জিজ্ঞেস করা যেতে পারে। তারা চিন্তা করবে কোন জিনিসগুলো তারা ঠিকভাবে করতো, বা কোনটা ভুল ছিল বা তাদের জানা ছিল না। ফলে তারা সতর্কতার সাথে formal informal expressions বুঝতে চেষ্টা করবে এবং তাদের পর্যবেক্ষণ শেয়ার করবে। তৃতীয় ধাপে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন প্রসঙ্গ যা পরিস্থিতির কথোপকথনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে থাকবে এবং নিজেরাও অনুশীলন করবে।
এর ফলে তারা বুঝবে কোথায় এবং কাদের সাথে কোন ধরনের ভাষা ব্যবহৃত হয়। তারা এই ধাপে বিভিন্ন activity-তে অংশগ্রহণ করবে, যা formal informal expressions নিয়ে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট করবে। চূড়ান্ত ধাপে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত যা শিখেছে, সেটার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি অনুযায়ী কথোপকথনে অংশগ্রহণ করবে
বা কথোপকথন লিখবে। এতে তারা প্রয়োজনীয় বা কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনে কতটুকু সফল হলো, তা বোঝা যাবে।
Mohammad Shahjahan
Teacher(English)
Kurmitola High School and College.